জন্মকুণ্ডলীতে গণ্ডমূল নক্ষত্রের প্রভাবে সৃষ্ট সম্ভাব্য বাধা, পারিবারিক অশান্তি ও জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতা প্রশমনের উদ্দেশ্যে গণ্ডমূল দোষ পূজা করা হয়। শাস্ত্রসম্মত বিধি অনুসারে এই পূজা করলে শুভ ফল বৃদ্ধি ও অশুভ প্রভাব হ্রাস পেতে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
জন্মকুণ্ডলীতে কালসর্প দোষ থাকলে জীবনে বাধা, মানসিক অস্থিরতা, কর্মজীবনে প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই পূজা শাস্ত্রসম্মত নিয়মে সম্পন্ন করে দোষের প্রভাব প্রশমনের জন্য প্রার্থনা করা হয়।
জন্মনক্ষত্রের অশুভ প্রভাব বা নক্ষত্রজনিত দোষ দূর করার জন্য নক্ষত্র দোষ পূজা করা হয়। এই পূজার মাধ্যমে মানসিক শান্তি, পারিবারিক সুখ, স্বাস্থ্য ও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুভ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধির কামনা করা হয়।
জন্মকুণ্ডলীতে বিদ্যমান বিভিন্ন জ্যোতিষীয় দোষ বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত পূজা, মন্ত্র, রত্ন বা অন্যান্য শাস্ত্রসম্মত প্রতিকারের পরামর্শ প্রদান করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য জ্যোতিষীয় কারণ চিহ্নিত করে শুভ ফল লাভের পথ সুগম করা।
পিতৃ দোষের কারণে পারিবারিক অশান্তি, কর্মে বাধা, বিবাহে বিলম্ব বা আর্থিক সমস্যার মতো প্রতিকূলতা দেখা দিতে পারে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়। পিতৃ দোষ পূজার মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
জন্মকুণ্ডলীতে নবগ্রহের অশুভ প্রভাব প্রশমিত করে জীবনে শান্তি, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে নবগ্রহ পূজা করা হয়। এই পূজা গ্রহজনিত বাধা দূর করে শুভ ফল বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
সূর্য দেবের আশীর্বাদ লাভ, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণ, সুস্বাস্থ্য ও কর্মজীবনে উন্নতির কামনায় সূর্য পূজা করা হয়। এটি জীবনে ইতিবাচক শক্তি ও সাফল্য বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
মানসিক শান্তি, আবেগের ভারসাম্য, পারিবারিক সুখ এবং মানসিক অস্থিরতা দূর করার উদ্দেশ্যে চন্দ্র পূজা করা হয়। এই পূজা মনকে স্থির ও প্রশান্ত রাখতে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
মঙ্গল গ্রহের অশুভ প্রভাব প্রশমিত করে বিবাহ, স্বাস্থ্য, সাহস, জমি-সম্পত্তি ও কর্মজীবনের বাধা দূর করার জন্য মঙ্গল পূজা করা হয়। এটি শক্তি ও শুভ ফল বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা হয়।
বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, ব্যবসা, যোগাযোগ দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বুধ পূজা করা হয়। বুধ গ্রহের শুভ প্রভাব জীবনে উন্নতি ও সাফল্য আনতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধর্মীয় উন্নতি, বিবাহ, সন্তানের কল্যাণ এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বৃহস্পতি (গুরু) পূজা করা হয়। এটি শুভ গ্রহের আশীর্বাদ লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূজা।
দাম্পত্য সুখ, প্রেম, সৌন্দর্য, বিলাসিতা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য শুক্র পূজা করা হয়। শুক্র গ্রহের শুভ প্রভাব জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
শনি গ্রহের অশুভ প্রভাব প্রশমিত করে কর্মজীবনের বাধা, আর্থিক সমস্যা ও জীবনের প্রতিকূলতা কমানোর উদ্দেশ্যে শনি পূজা করা হয়। এই পূজা ধৈর্য, স্থিতিশীলতা ও শুভ ফল লাভে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
রাহু গ্রহের নেতিবাচক প্রভাব, হঠাৎ সমস্যা, বিভ্রান্তি ও জীবনের অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য রাহু পূজা করা হয়। এটি মানসিক স্থিরতা ও শুভ ফল অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা হয়।
কেতু গ্রহের অশুভ প্রভাব প্রশমিত করে আধ্যাত্মিক উন্নতি, মানসিক শান্তি এবং জীবনের বাধা দূর করার জন্য কেতু পূজা করা হয়। এই পূজার মাধ্যমে শুভ শক্তির আশীর্বাদ লাভের প্রার্থনা করা হয়।
জীবনের বিভিন্ন অশান্তি, গ্রহজনিত বাধা ও নেতিবাচক প্রভাব প্রশমনের উদ্দেশ্যে শান্তি পূজা করা হয়। এই পূজার মাধ্যমে মানসিক শান্তি, পারিবারিক সুখ এবং জীবনে শুভ শক্তির আশীর্বাদ কামনা করা হয়।
শনি সাড়ে সাতির সময় কর্মজীবন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শাস্ত্রসম্মত পূজা ও প্রতিকার করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শনির অশুভ প্রভাব প্রশমিত করে জীবনে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও শুভ ফল লাভের প্রার্থনা করা।